Shah Mustafa
৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম ছাইয়েদ শাহ্ মোস্তফা শের-ই-সওয়ার চাবুকমার বগদাদীর (মৃঃ ১৪ জানুয়ারি ১৩৩৬) হয়াত-ই-তৈয়বা[1][2]
হয়াত-ই-শাহ্ মোস্তফা
আপনি বগদাদ শরীফে পয়দা হলেন।[3] আপনার দাদা ছাইয়েদ ইব্রাহীম মদনী ছিলেন হজরত আব্দুল কাদের গিলানীর বংশধর এবং আমীরুল মোমেনীন হজরত আলী (রাঃ) এর ২৩তম বংশধর। ছাইয়েদ ইব্রাহীম মদনী ছাহেব সোনার মদীনা মনওয়ারা শরীফ হতে বগদাদ চলি যান। আপনার আব্বা ছাইয়েদ ছুলতান বগদাদী (রাঃ) মক্কা-মদীনা আসা-যাওয়া করিতেন।[4][5]
আপনি ছিলেন ছাইয়েদ ছুলতান বগদাদীর বড় ছাহেবজাদা এবং আপনার ছোট ভাই ছিল। আপনি আব্বার সাথে পড়ালেখা করেন তার বাদে নেজামিয়া মাদ্রাছায় পড়েন তার বাদে মুলতান শহরের সিরিয়া মাদ্রাছায়।[6][4]
হজরত শাহ জলাল মজঃরদ কুনিয়ায়ী যখন বগদাদ শরীফ গমন করেন তখন আমীর মুস্তাছিম্বিল্লার কতল হয়।[7] আপনি এবং আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইছমাঈল বগদাদী তখন হজরতের সফরসঙ্গী হন। অবশেষে সিলেটের বিজয়ে অংগ্রহণ করিয়া হজরত শাজলাল আপনাকে, আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহকে অন্যরাসহ অন্য এলাকায় ইছলাম প্রচারের লাগিয়া চলি যাইবার নির্দেশ করেন।[8]
আপনারা দক্ষিণ দিকে রওয়ানা হন, এবং আপনারা দয়ামীর পৌছিয়া সেখানে এক রাত থাকেন। পরের দিন দয়ামীর থেকে আবার সফর শুরু করেন এবং বুরুঙ্গা পরগণার মোক্তারপূরের তিলাপাড়া গমন করেন। সেখানে আপনি পুকুরের পাশে বড় একটি গাছের তলে বসেন। কিন্তু এই গাছ এবং পুকুর ছিল এক ব্রাহ্মণ খান্দানের বাড়ীর অংশ। হিন্দুরা এই গাছে প্রত্যেক দিন আসিতেন নৈবেদ্য দিতে এবং দেবতার তৃপ্তি পাইবার জন্য। আপনি যখন দয়ামীরে রাত কাটাইছিলেন সেই রাতে ব্রাহ্মণ স্বামী-ইস্ত্রি দুজন স্বপনে দেখেন যে তাদের দেবতা চলি যাইতেছেন। স্বপনের মধ্যে ব্রাহ্মণ পরিবার দেবতাকে চলে যেতে বাধা দিল কিন্তু দেবতা বলিল যে সত্য আগমন করেছে এখন রহিবার অদিকার আর নেই। স্বপন থেকে উঠিয়া, ব্রাহ্মণ গাছকে দেখতে যান আর আপনি, শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহকে দেখে ফেলেন সেখানে। ব্রাহ্মণ আপনাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলে অবশেষে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজী হন। ব্রাহ্মণ মহোদয়ের ইসলামগ্রহণের খবর তাড়াতাড়ি এটা ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন অনেক মানুষ আসিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন আপনার দাওয়াতে। আপনি আপনার মুরীদকে তিলাপাড়ায় বাস করার এবং নও-মুসলমানকে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিকাল বেলায় তারপর আপনি, শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহ, এবং অন্যান্য জনের সঙ্গে সফর আবার শুরু করেন।[4]
অবশেষে আপনি চন্দ্রপূরে পৌছে যান যা বর্তমানে মৌলবীবাজার নামে পরিচিত। সেখানে আপনি বর্ষিজোড়া এলাকার নিকট এক গ্রামে টিলার উপর একটি হুজরাখানা নির্মাণ করেন।[2] সেই গ্রাম এখন আপনার নামে মোস্তফাপূর নামে পরিচিত। চন্দ্রপূরের শাসক ছিলেন রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ যিনি হয়ত ইটা রাজবংশের সদস্য কিংবা ত্রিপুরা রাজ্যের কর্মকর্তা ছিলেন। আপনি চন্দ্রপূরে বাস করার অনুমতি অনুরোধ করেন কিন্তু রাজায় অনুমতি দিলো না। একই সময়ে আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইসমাঈল বগদাদী ইন্তেকাল করেন (ইন্না... রাজিউন)। অনেক মানুষ আপনার হুজরাখানায় এসে ইসলামের বাণী শুনিতেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিতেন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ এসব ইসলামগ্রহণের খবর শুনে রাগী হন। তিনি আপনাকে চন্দ্রপূর থেকে বের হইবার জন্য নির্দেশ জারি করেন।[6]
এক দিন, একটি বিষাক্ত সাপ রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের সিংহাসনে বসে এবং রাজার কর্মকর্তারা কেউ এই সাপকে সরাতে পারে না।[8] এই ঘটনার সমাধান কীভাবে করা যায় তা চিন্তা করে বর্ষিজোড়ার সাতপাবিয়া পাহাড়ের উপরে রাজার প্রাসাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, যখন রাজার কর্মকর্তারা প্রাসাদে ব্যস্ত ছিল, একটি বাঘ (শের) হাটবাজারে প্রবেশ করে এবং চন্দ্রপূর জুড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করছিল।[9] এই ঘটনার খবর আপনার কাছে পৌঁছেছে। অবশেষে আপনি হুজরাখানার থেকে চলে গেলেন এবং প্রাসাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পথে আপনি বাজারের শেরের সাথে এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে আপনি শেরের পিঠে উঠিয়া সওয়ার হয়ে যান। আপনি বাঘের পিঠে দৌড়ে সাতপাবিয়ার প্রাসাদে এসে সাপটিকে মারিবার জন্য চাবুক ব্যবহার করেন।[10]
রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ অনেক খুশী হন আপনার সাহসিকতায়। উনার কোন ছেলে সন্তান না থাকায়, তিনি আপনাকে উনার নিজ কন্যাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করেন। রাজার কন্যাকে ইসলামগ্রহণ করেন, এবং সালমা খাঁতুন নাম রেখে আপনাকে শাদী করেন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ ইসলামগ্রহণ করেন বা করেন না সেটা সঠিক জানা নেই।[2] রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ চন্দ্রপূর রাজ্য ছেড়ে আপনাকে দায়িত্ত্ব দেন। তিনি চলি যান কমলগঞ্জস্থ দেওরাছড়ার উত্তর দিকে যেখানে তিনি নতুন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এই নতুন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখা যায় শ্যামেরকোনা গ্রামের পশ্চিম দিকে। প্রাসাদের নিকট দিঘি এখনও রাজার দিঘি নামে পরিচিত।[11]
জিন্দেগীতে আপনি তিন বার শাদী করেন। পহেলা আপনি বগদাদের ছাইয়েদ বংশের একজন মহিলাকে বিয়ে করেন এবং উনার গর্ভে শাহ ইছমাঈল পয়দা হন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের মেয়ে ছালমা খাঁতুনকে শাদী করেন এবং উনার গর্ভে পয়দা হন ছাইয়েদ শাহ নছরুল্লাহ্।[6] আপনি ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম শাহ আব্দুল মালেক কানিহাটি হুজুরের ছাহেবজাদী বিবি হমীরাকে শাদী করেন এবং উনার গর্ভে পয়দা হন ছাইয়েদ শাহ্ হাছন।[6] আপনার মাজার মৌলবীবাজারের দরগাহ মহল্লায় অবস্থিত। সাতশ বছর ধরে আপনার উরুস এবং দুই দিন ব্যাপী মেলা পালন হয় মৌলবীবাজারে।[12][13][14] আপনার মাজার শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে শাহ ইছমাঈল এবং ভাতিজা শাহ ইয়াছীন ছাহেবদের মাজার।[9] খলীলপূর ও দেওরাছড়ায় আপনার দোছরা শশুর রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের প্রাসাদগুলো এখনও দেখা যায়।[15]
References
- ↑ also spelt Mostafa or Mostofa
- ↑ 2.0 2.1 2.2 "Google" শের সওয়ার, চাবুক মার (in Bengali). Shaptahik. 2009.
- ↑ "Bāṃlā Ekāḍemī patrikā". Bangla Academy Patrika. Bangla Academy. 48. 2004.
- ↑ 4.0 4.1 4.2 Ahmad Babu, Syed Kamal. শিকড়ের সন্ধানে (in Bengali). Search this book on
- ↑ Rashid, Ahmad (1976). Tazkeratul Aoliya. Shireen Publications. pp. 137–139. Search this book on
- ↑ 6.0 6.1 6.2 6.3 Rajat Kanti Goswami (31 March 2007). "Journey Through Bangladesh: Hazrat Shah Mustafa's Legacy". 2 (7). Star Insight (Daily Star). Archived from the original on 16 June 2019. Retrieved 2 May 2023.
- ↑ Ibn Battutah. The Rehla of Ibn Battuta.
He had seen Caliph al-Musta’sim Billah al-Abbasi at Baghdad, and that he was there at the time of his murder.
Search this book on
- ↑ 8.0 8.1 Syed Murtaza Ali (1965). হজরত শাহ জালাল ও সিলেটের ইতিহাস [Hazrat Shah Jalal and the History of Sylhet] (in Bengali). p. 42. Search this book on
- ↑ 9.0 9.1 Mujibur Rahman Mujib (10 January 2019). পীরে কামেল হযরত সৈয়দ শাহ (in Bengali). Patakuri. Archived from the original on 28 February 2019. Retrieved 2 May 2023.
- ↑ জানুয়ারি হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (রঃ) এর উরস মোবারক (in Bengali). Jalalabad Barta. 13 January 2019.
- ↑ Patrikā, Volume 6. Bengali Academy. 1962. p. 103. Search this book on
- ↑ S M Umed Ali (15 January 2017). মৌলভীবাজারে শাহ মোস্তফা (রহ.) দরগায় ওরস শুরু. NTV Online (in Bengali). NTV.
- ↑ "District census report". Population Census of Bangladesh. Bangladesh Bureau of Statistics, Statistics Division, Ministry of Planning. 1974. p. 30. Search this book on
- ↑ হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর ৬৭৮ তম ওরুস মোবারক শুরু (in Bengali). Moulvibazar Barta. 17 January 2019.[permanent dead link]
- ↑ "Introduction". Moulvibazar.com. January 2016. Retrieved 4 September 2018.
৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম ছাইয়েদ শাহ্ মোস্তফা শের-ই-সওয়ার চাবুকমার বগদাদীর (মৃঃ ১৪ জানুয়ারি ১৩৩৬) হয়াত-ই-তৈয়বা[1][2]
হয়াত-ই-শাহ্ মোস্তফা
আপনি বগদাদ শরীফে পয়দা হলেন।[3] আপনার দাদা ছাইয়েদ ইব্রাহীম মদনী ছিলেন হজরত আব্দুল কাদের গিলানীর বংশধর এবং আমীরুল মোমেনীন হজরত আলী (রাঃ) এর ২৩তম বংশধর। ছাইয়েদ ইব্রাহীম মদনী ছাহেব সোনার মদীনা মনওয়ারা শরীফ হতে বগদাদ চলি যান। আপনার আব্বা ছাইয়েদ ছুলতান বগদাদী (রাঃ) মক্কা-মদীনা আসা-যাওয়া করিতেন।[4][5]
আপনি ছিলেন ছাইয়েদ ছুলতান বগদাদীর বড় ছাহেবজাদা এবং আপনার ছোট ভাই ছিল। আপনি আব্বার সাথে পড়ালেখা করেন তার বাদে নেজামিয়া মাদ্রাছায় পড়েন তার বাদে মুলতান শহরের সিরিয়া মাদ্রাছায়।[6][4]
হজরত শাহ জলাল মজঃরদ কুনিয়ায়ী যখন বগদাদ শরীফ গমন করেন তখন আমীর মুস্তাছিম্বিল্লার কতল হয়।[7] আপনি এবং আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইছমাঈল বগদাদী তখন হজরতের সফরসঙ্গী হন। অবশেষে সিলেটের বিজয়ে অংগ্রহণ করিয়া হজরত শাজলাল আপনাকে, আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহকে অন্যরাসহ অন্য এলাকায় ইছলাম প্রচারের লাগিয়া চলি যাইবার নির্দেশ করেন।[8]
আপনারা দক্ষিণ দিকে রওয়ানা হন, এবং আপনারা দয়ামীর পৌছিয়া সেখানে এক রাত থাকেন। পরের দিন দয়ামীর থেকে আবার সফর শুরু করেন এবং বুরুঙ্গা পরগণার মোক্তারপূরের তিলাপাড়া গমন করেন। সেখানে আপনি পুকুরের পাশে বড় একটি গাছের তলে বসেন। কিন্তু এই গাছ এবং পুকুর ছিল এক ব্রাহ্মণ খান্দানের বাড়ীর অংশ। হিন্দুরা এই গাছে প্রত্যেক দিন আসিতেন নৈবেদ্য দিতে এবং দেবতার তৃপ্তি পাইবার জন্য। আপনি যখন দয়ামীরে রাত কাটাইছিলেন সেই রাতে ব্রাহ্মণ স্বামী-ইস্ত্রি দুজন স্বপনে দেখেন যে তাদের দেবতা চলি যাইতেছেন। স্বপনের মধ্যে ব্রাহ্মণ পরিবার দেবতাকে চলে যেতে বাধা দিল কিন্তু দেবতা বলিল যে সত্য আগমন করেছে এখন রহিবার অদিকার আর নেই। স্বপন থেকে উঠিয়া, ব্রাহ্মণ গাছকে দেখতে যান আর আপনি, শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহকে দেখে ফেলেন সেখানে। ব্রাহ্মণ আপনাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলে অবশেষে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজী হন। ব্রাহ্মণ মহোদয়ের ইসলামগ্রহণের খবর তাড়াতাড়ি এটা ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন অনেক মানুষ আসিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন আপনার দাওয়াতে। আপনি আপনার মুরীদকে তিলাপাড়ায় বাস করার এবং নও-মুসলমানকে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিকাল বেলায় তারপর আপনি, শাহ ইছমাঈল এবং নূর আলী শাহ, এবং অন্যান্য জনের সঙ্গে সফর আবার শুরু করেন।[4]
অবশেষে আপনি চন্দ্রপূরে পৌছে যান যা বর্তমানে মৌলবীবাজার নামে পরিচিত। সেখানে আপনি বর্ষিজোড়া এলাকার নিকট এক গ্রামে টিলার উপর একটি হুজরাখানা নির্মাণ করেন।[2] সেই গ্রাম এখন আপনার নামে মোস্তফাপূর নামে পরিচিত। চন্দ্রপূরের শাসক ছিলেন রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ যিনি হয়ত ইটা রাজবংশের সদস্য কিংবা ত্রিপুরা রাজ্যের কর্মকর্তা ছিলেন। আপনি চন্দ্রপূরে বাস করার অনুমতি অনুরোধ করেন কিন্তু রাজায় অনুমতি দিলো না। একই সময়ে আপনার ছাহেবজাদা শাহ ইসমাঈল বগদাদী ইন্তেকাল করেন (ইন্না... রাজিউন)। অনেক মানুষ আপনার হুজরাখানায় এসে ইসলামের বাণী শুনিতেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিতেন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ এসব ইসলামগ্রহণের খবর শুনে রাগী হন। তিনি আপনাকে চন্দ্রপূর থেকে বের হইবার জন্য নির্দেশ জারি করেন।[6]
এক দিন, একটি বিষাক্ত সাপ রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের সিংহাসনে বসে এবং রাজার কর্মকর্তারা কেউ এই সাপকে সরাতে পারে না।[8] এই ঘটনার সমাধান কীভাবে করা যায় তা চিন্তা করে বর্ষিজোড়ার সাতপাবিয়া পাহাড়ের উপরে রাজার প্রাসাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, যখন রাজার কর্মকর্তারা প্রাসাদে ব্যস্ত ছিল, একটি বাঘ (শের) হাটবাজারে প্রবেশ করে এবং চন্দ্রপূর জুড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করছিল।[9] এই ঘটনার খবর আপনার কাছে পৌঁছেছে। অবশেষে আপনি হুজরাখানার থেকে চলে গেলেন এবং প্রাসাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পথে আপনি বাজারের শেরের সাথে এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে আপনি শেরের পিঠে উঠিয়া সওয়ার হয়ে যান। আপনি বাঘের পিঠে দৌড়ে সাতপাবিয়ার প্রাসাদে এসে সাপটিকে মারিবার জন্য চাবুক ব্যবহার করেন।[10]
রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ অনেক খুশী হন আপনার সাহসিকতায়। উনার কোন ছেলে সন্তান না থাকায়, তিনি আপনাকে উনার নিজ কন্যাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করেন। রাজার কন্যাকে ইসলামগ্রহণ করেন, এবং সালমা খাঁতুন নাম রেখে আপনাকে শাদী করেন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ ইসলামগ্রহণ করেন বা করেন না সেটা সঠিক জানা নেই।[2] রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহ চন্দ্রপূর রাজ্য ছেড়ে আপনাকে দায়িত্ত্ব দেন। তিনি চলি যান কমলগঞ্জস্থ দেওরাছড়ার উত্তর দিকে যেখানে তিনি নতুন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এই নতুন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখা যায় শ্যামেরকোনা গ্রামের পশ্চিম দিকে। প্রাসাদের নিকট দিঘি এখনও রাজার দিঘি নামে পরিচিত।[11]
জিন্দেগীতে আপনি তিন বার শাদী করেন। পহেলা আপনি বগদাদের ছাইয়েদ বংশের একজন মহিলাকে বিয়ে করেন এবং উনার গর্ভে শাহ ইছমাঈল পয়দা হন। রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের মেয়ে ছালমা খাঁতুনকে শাদী করেন এবং উনার গর্ভে পয়দা হন ছাইয়েদ শাহ নছরুল্লাহ্।[6] আপনি ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম শাহ আব্দুল মালেক কানিহাটি হুজুরের ছাহেবজাদী বিবি হমীরাকে শাদী করেন এবং উনার গর্ভে পয়দা হন ছাইয়েদ শাহ্ হাছন।[6] আপনার মাজার মৌলবীবাজারের দরগাহ মহল্লায় অবস্থিত। সাতশ বছর ধরে আপনার উরুস এবং দুই দিন ব্যাপী মেলা পালন হয় মৌলবীবাজারে।[12][13][14] আপনার মাজার শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে শাহ ইছমাঈল এবং ভাতিজা শাহ ইয়াছীন ছাহেবদের মাজার।[9] খলীলপূর ও দেওরাছড়ায় আপনার দোছরা শশুর রাজা চন্দ্রনারায়ণ সিংহের প্রাসাদগুলো এখনও দেখা যায়।[15]
References
- ↑ Cite error: Invalid
<ref>tag; no text was provided for refs named:0 - ↑ 2.0 2.1 2.2 "Google" শের সওয়ার, চাবুক মার (in Bengali). Shaptahik. 2009.
- ↑ Cite error: Invalid
<ref>tag; no text was provided for refs named:1 - ↑ 4.0 4.1 4.2 Ahmad Babu, Syed Kamal. শিকড়ের সন্ধানে (in Bengali). Search this book on
- ↑ Rashid, Ahmad (1976). Tazkeratul Aoliya. Shireen Publications. pp. 137–139. Search this book on
- ↑ 6.0 6.1 6.2 6.3 Rajat Kanti Goswami (31 March 2007). "Journey Through Bangladesh: Hazrat Shah Mustafa's Legacy". 2 (7). Star Insight (Daily Star). Archived from the original on 16 June 2019. Retrieved 2 May 2023.
- ↑ Ibn Battutah. The Rehla of Ibn Battuta.
He had seen Caliph al-Musta’sim Billah al-Abbasi at Baghdad, and that he was there at the time of his murder.
Search this book on
- ↑ 8.0 8.1 Syed Murtaza Ali (1965). হজরত শাহ জালাল ও সিলেটের ইতিহাস [Hazrat Shah Jalal and the History of Sylhet] (in Bengali). p. 42. Search this book on
- ↑ 9.0 9.1 Mujibur Rahman Mujib (10 January 2019). পীরে কামেল হযরত সৈয়দ শাহ (in Bengali). Patakuri. Archived from the original on 28 February 2019. Retrieved 2 May 2023.
- ↑ Cite error: Invalid
<ref>tag; no text was provided for refs named:3 - ↑ Cite error: Invalid
<ref>tag; no text was provided for refs named:4 - ↑ S M Umed Ali (15 January 2017). মৌলভীবাজারে শাহ মোস্তফা (রহ.) দরগায় ওরস শুরু. NTV Online (in Bengali). NTV.
- ↑ "District census report". Population Census of Bangladesh. Bangladesh Bureau of Statistics, Statistics Division, Ministry of Planning. 1974. p. 30. Search this book on
- ↑ হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর ৬৭৮ তম ওরুস মোবারক শুরু (in Bengali). Moulvibazar Barta. 17 January 2019.[permanent dead link]
- ↑ Cite error: Invalid
<ref>tag; no text was provided for refs named:5
